ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেগমগঞ্জে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা: সন্দেহভাজনদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

  • আপডেট: ১০:৩৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • 26

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (৩১ মে) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের পাঁচটি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

নিহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিবের স্বজন ও উত্তেজিত লোকজন এ হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুর ১২টার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিবের বাবা ও এক ভাই প্রবাসে থাকেন। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন। তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ছোট ভাই রিমনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের জেরে পাঁচটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। এর মধ্যে দুটি ঘর পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং আরও তিনটি ঘর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাকিব হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

বেগমগঞ্জে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা: সন্দেহভাজনদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

বেগমগঞ্জে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা: সন্দেহভাজনদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

আপডেট: ১০:৩৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (৩১ মে) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের পাঁচটি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

নিহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিবের স্বজন ও উত্তেজিত লোকজন এ হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুর ১২টার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিবের বাবা ও এক ভাই প্রবাসে থাকেন। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন। তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ছোট ভাই রিমনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের জেরে পাঁচটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। এর মধ্যে দুটি ঘর পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং আরও তিনটি ঘর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাকিব হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।