ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাটখিলে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

  • আপডেট: ১১:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • 53

 

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নে ফাহিমা আক্তার রিফা (১৮) নামের এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে বাবার পরিবার। অন্যদিকে, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় তা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে স্বামীর পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ চাটখিলের সাহাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তফদার বাড়ির মো. সালাউদ্দীনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার রিফার সাথে প্রসাদপুর গ্রামের আমজাদ ব্যাপারীর বাড়ির মৃত কবির হোসেনের মেঝো ছেলে সৌদি প্রবাসী ফয়সাল আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল।

কন্যার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা মো. সালাউদ্দীন। তিনি  বিচার দাবি করে বলেন, “আমার মেয়েটাকে ওরা নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। বিয়ের পর থেকেই তার পরিবারের লোকজন রিফার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে ফয়সাল আমকে ফোন করে রিপাকে দ্রুত নিয়ে আসার জন্য বলে। আমি তাৎক্ষণিক রীপাকে ফোন দিলে অন্যকেউ প্রথমে তা রিসিভ করে। সেসময় রিফা আমার সাথে খুব উৎকন্ঠা নিয়ে কথা বলেছিলো। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে গিয়ে দেখে আমার মেয়ে আর নাই।”

নিহতের ফুফু পপি আক্তারও একই অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর ফয়সাল ও রিফার মধ্যে টুকটাক ঝগড়া এবং কথাকাটাকাটি চলছিল। ফয়সাল প্রায়ই রিফাকে গালাগালি করত এবং একপর্যায়ে রিফার ফোন নম্বরও ব্লক করে দেয়। তার দেবর বিরন তার স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর রীফার ওপর শারীরিক নির্যাতন ও অসামাজিক আবদার করতো।”

তিনি আরও জানান, ফয়সাল সৌদি যাওয়রা পর রিফা বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন। পরে রিফার ছোট বোনের চিকিৎসা কারানোর জন্য শুক্রবার চাটখিল উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যায়৷ বাড়িতে অন্যদের অনুপস্থিতিতে সুযোগে রিফার শাশুড়ী শুক্রবার সকালে তাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যায়। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে একই দিন বিকেলে রিফার এই মৃত্যুর খবর আসে।

বাবার পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা নয়। রিফার গলায় নখের দাগ এবং শরীরের অন্যান্য স্থানেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে শ্বাসরোধ বা নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে নিহতের দেবর আকাশ বলেন, ‘ঘটনার সময় মেঝো ভাই ফয়সালের ফোন পেয়ে আমি ভাবীর ঘরের দিকে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ঘরের উভয় দরজাই বন্ধ। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় উনাকে উদ্ধার করি। সেখানে বাড়ির আরো লোকজন উপস্থিত ছিল।”

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে যায়। সেখান গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিলো। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তদন্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

চাটখিলে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট: ১১:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নে ফাহিমা আক্তার রিফা (১৮) নামের এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে বাবার পরিবার। অন্যদিকে, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় তা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে স্বামীর পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ চাটখিলের সাহাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তফদার বাড়ির মো. সালাউদ্দীনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার রিফার সাথে প্রসাদপুর গ্রামের আমজাদ ব্যাপারীর বাড়ির মৃত কবির হোসেনের মেঝো ছেলে সৌদি প্রবাসী ফয়সাল আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল।

কন্যার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা মো. সালাউদ্দীন। তিনি  বিচার দাবি করে বলেন, “আমার মেয়েটাকে ওরা নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। বিয়ের পর থেকেই তার পরিবারের লোকজন রিফার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে ফয়সাল আমকে ফোন করে রিপাকে দ্রুত নিয়ে আসার জন্য বলে। আমি তাৎক্ষণিক রীপাকে ফোন দিলে অন্যকেউ প্রথমে তা রিসিভ করে। সেসময় রিফা আমার সাথে খুব উৎকন্ঠা নিয়ে কথা বলেছিলো। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে গিয়ে দেখে আমার মেয়ে আর নাই।”

নিহতের ফুফু পপি আক্তারও একই অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর ফয়সাল ও রিফার মধ্যে টুকটাক ঝগড়া এবং কথাকাটাকাটি চলছিল। ফয়সাল প্রায়ই রিফাকে গালাগালি করত এবং একপর্যায়ে রিফার ফোন নম্বরও ব্লক করে দেয়। তার দেবর বিরন তার স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর রীফার ওপর শারীরিক নির্যাতন ও অসামাজিক আবদার করতো।”

তিনি আরও জানান, ফয়সাল সৌদি যাওয়রা পর রিফা বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন। পরে রিফার ছোট বোনের চিকিৎসা কারানোর জন্য শুক্রবার চাটখিল উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যায়৷ বাড়িতে অন্যদের অনুপস্থিতিতে সুযোগে রিফার শাশুড়ী শুক্রবার সকালে তাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যায়। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে একই দিন বিকেলে রিফার এই মৃত্যুর খবর আসে।

বাবার পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা নয়। রিফার গলায় নখের দাগ এবং শরীরের অন্যান্য স্থানেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে শ্বাসরোধ বা নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে নিহতের দেবর আকাশ বলেন, ‘ঘটনার সময় মেঝো ভাই ফয়সালের ফোন পেয়ে আমি ভাবীর ঘরের দিকে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ঘরের উভয় দরজাই বন্ধ। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় উনাকে উদ্ধার করি। সেখানে বাড়ির আরো লোকজন উপস্থিত ছিল।”

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে যায়। সেখান গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিলো। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তদন্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।