
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একটি সিআর মামলার ঘটনায় নিজে সরেজমিন তদন্ত না করে ১৪তম গ্রেডের এক কর্মকর্তা ও জারীকারককে দিয়ে তদন্ত করিয়ে সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর এমন লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল নামে এক ব্যক্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৯, মামলা নং-১৯৮/২৬। মামলার বাদী জসিম উদ্দিন। আদালত ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারায় হলফান্তে বাদীর ফরিয়াদীকে পরীক্ষা করে। দাখিলী নালিশী দরখাস্ত ও অভিযোগকারীরর প্রদত্ত জবানবন্দী পর্যালোচনা করে। গত ২১ মে নালিশী দরখাস্তে বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে সরেজিমন ঘটনাস্থল গমনপূর্বক সাক্ষীদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) কে লিখিত আদেশ দেয় আদালত।
ভুক্তভোগী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আদালত কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন কে নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে ১৪তম গ্রেডের কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম ও জারীকারক কামাল উদ্দিন কে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করান। পরে ওই কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৪তম গ্রেডের কর্মকর্তা ও জারীকারকের মাধ্যমে তদন্ত করানো আদালতের আদেশের পরিপন্থী। এ কারণে বিষয়টি জেলা প্রশাসক বরাবার লিখিত অভিযোগ করেছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছি। আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকেও অবহিত করব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি নিজ থেকে তদন্তে যাইনি। ম্যাডামের নির্দেশে আমরা তদন্তে গিয়েছি।
অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন বলেন, আমার স্বামী জজ আমি কাউকে বলেনি। আমি বলে থাকলে তিনি প্রমাণ সহকারে উপস্থাপন করুক। আমারও নাগরিক হিসেবে একটা অধিকার আছে। আমার নামে কেউ যদি ভুল অভিযোগ দেয়, মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়, আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। আমার সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিলে আমারও অধিকার আছে।
তিনি আরও বলেন, বিবাদীদের জবানবন্দি নেওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নেই। তারপরও ওই যুবকের বার বার সুপারিশের কারণে আমরা বিবাদীদেরও বক্তব্য নেয়। আমাদের শুধু বাদীর সাক্ষী পক্ষের আদালতে লিখিত জবানবন্দি পাঠানোর কথা। বরং আমরা বিবাদীর জবানবন্দিসহ পাঠিয়েছি। তারপরও তিনি যদি অভিযোগ করেন তার প্রমাণসহ অভিযোগ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.ইয়াছিন বলেন, যথাযথ আদালত যদি কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে থাকে, সেটি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে তদন্ত নিয়ে ভুক্তভোগী সন্তুষ্ট না হলে তিনি আদালতে নারাজি দিবেন।


















