ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলনগরে স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

  • আপডেট: ০২:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • 9

স্টাফ রিপোর্টার:-লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বসা ৮টি অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন খামারি, ক্রেতা ও বিক্রেতারা।তাদের দাবি,সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গরু,ছাগল,ভেড়া ও মহিষ বিক্রিতে প্রতি ১০০ টাকায়

২টাকা হারে টোল আদায়ের বিধান থাকলেও অভিযোগ রয়েছে,কমলনগরের বিভিন্ন হাটে সেই হার মানা হচ্ছে না। ইজারাদার বা সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।হাটে আসা কয়েকজন বিক্রেতা অভিযোগ করেন,সরকারি নির্ধারিত টোলের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়াই অর্থ আদায় করা হয়।এতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।একই অভিযোগ করেছেন ক্রেতারাও।তাদের ভাষ্য,পশু কেনাবেচার বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।অভিযোগকারী খামারি নেচার উদ্দিন বলেন,“একটি ছাগল বিক্রিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা

উভয়ের কাছ থেকেই প্রতি হাজার টাকায় ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়।এত টাকা দিলে লাভ তো দূরের কথা,খরচই উঠে না।তাই বাজারে দুইটি ছাগল নিয়ে এসেও বিক্রি না করে আবার খামারে ফিরিয়ে নিয়েছি।এদিকে উপজেলার অধিকাংশ স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে প্রশাসনিক মনিটরিং ও পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু ক্রেতা ও স্থানীয়রা।তাদের অভিযোগ, কয়েকটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বুথ বা চিকিৎসক চোখে পড়েনি।ফলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পশু কেনাবেচা চলছে এবং রোগাক্রান্ত পশু বিক্রির আশঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন,“আমরা উপজেলার প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে পশু চিকিৎসা মেডিকেল টিম গঠন করেছি।এসব টিম হাটগুলোতে মনিটরিং করবে এবং

পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু যাতে হাটে বিক্রি না হয়,সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন,ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় যেন অঘোষিত নিয়মে’পরিণত হয়েছে।কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হয়রানির আশঙ্কা থাকে বলেও দাবি তাদের।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়।এ সময় প্রশাসনের

কঠোর নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত টোল আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়।ভুক্তভোগীদের দাবি,সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।এ বিষয়ে স্থায়ী হাজিরহাট পশুর বাজারের ইজারাদার মোঃবাবুল বলেন,“আমি সবসময় হাটে উপস্থিত থাকি না, তাই বিষয়টি জানা নেই।খোঁজ নিয়ে দেখবো।তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।”এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাহাতুজ্জামান বলেন,“বিষয়টি আমার জানা ছিল না।হাটবাজারগুলোতে প্রশাসনিক মনিটরিং করা হবে।অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

কমলনগরে স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

আপডেট: ০২:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:-লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বসা ৮টি অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন খামারি, ক্রেতা ও বিক্রেতারা।তাদের দাবি,সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গরু,ছাগল,ভেড়া ও মহিষ বিক্রিতে প্রতি ১০০ টাকায়

২টাকা হারে টোল আদায়ের বিধান থাকলেও অভিযোগ রয়েছে,কমলনগরের বিভিন্ন হাটে সেই হার মানা হচ্ছে না। ইজারাদার বা সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।হাটে আসা কয়েকজন বিক্রেতা অভিযোগ করেন,সরকারি নির্ধারিত টোলের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়াই অর্থ আদায় করা হয়।এতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।একই অভিযোগ করেছেন ক্রেতারাও।তাদের ভাষ্য,পশু কেনাবেচার বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।অভিযোগকারী খামারি নেচার উদ্দিন বলেন,“একটি ছাগল বিক্রিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা

উভয়ের কাছ থেকেই প্রতি হাজার টাকায় ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়।এত টাকা দিলে লাভ তো দূরের কথা,খরচই উঠে না।তাই বাজারে দুইটি ছাগল নিয়ে এসেও বিক্রি না করে আবার খামারে ফিরিয়ে নিয়েছি।এদিকে উপজেলার অধিকাংশ স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে প্রশাসনিক মনিটরিং ও পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু ক্রেতা ও স্থানীয়রা।তাদের অভিযোগ, কয়েকটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বুথ বা চিকিৎসক চোখে পড়েনি।ফলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পশু কেনাবেচা চলছে এবং রোগাক্রান্ত পশু বিক্রির আশঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন,“আমরা উপজেলার প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে পশু চিকিৎসা মেডিকেল টিম গঠন করেছি।এসব টিম হাটগুলোতে মনিটরিং করবে এবং

পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু যাতে হাটে বিক্রি না হয়,সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন,ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় যেন অঘোষিত নিয়মে’পরিণত হয়েছে।কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হয়রানির আশঙ্কা থাকে বলেও দাবি তাদের।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়।এ সময় প্রশাসনের

কঠোর নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত টোল আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়।ভুক্তভোগীদের দাবি,সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।এ বিষয়ে স্থায়ী হাজিরহাট পশুর বাজারের ইজারাদার মোঃবাবুল বলেন,“আমি সবসময় হাটে উপস্থিত থাকি না, তাই বিষয়টি জানা নেই।খোঁজ নিয়ে দেখবো।তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।”এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাহাতুজ্জামান বলেন,“বিষয়টি আমার জানা ছিল না।হাটবাজারগুলোতে প্রশাসনিক মনিটরিং করা হবে।অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।