
স্টাফ রিপোর্টার:-লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন-ভগ্নিপতি ও তাঁদের সন্তানদের হত্যা চেষ্টাসহ এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠেছে শ্যালক ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে।সোমরাত রাত ১১টা ৪০ মিনিটের সময় ঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলাধীন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চর মনসা গ্রামে। মধ্যরাতে বোনের ঘরের দরজা ভেঙে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক মারধোর
সহ মারাত্মক ভাবে কুপিয়ে জখম করে বোন মনি বেগম (৩৩)ভগ্নিপতি বেলাল(৪৭)কে।এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ভাগ্নে রাহাত(১৫) শিশু আইমান (৪)ও তাদের হামলা হতে রেহাই পাননি।বেলাল ও মনি বেগম লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।শিশু সন্তানদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।ঘটনার বিবরণে জানা যায়,পশ্চিম চর মনসা গ্রামের বেলাল হোসেন তাঁর শ্বশুর একই গ্রামের মৃত মজিবলের হকের পুত্র মুনছুর আহমদের নিকট থেকে পশ্চিম চর মনসা মৌজায় ১৯ শতাংশ ভূমি ২লক্ষ ৯০হাজার টাকা মূল্যে খরিদ করেন।শ্বশুরের জমিন খরিদেই বিপত্তি ঘটে পরিবারের মধ্যে।শ্বশুর মুনছুর আহমদ নিজ জামাতা বেলালের কাছে ১৯ শতাংশ ভূমি বিক্রয় করে যথাযথ নিয়মে কবলা না দিয়ে বসতঘর নির্মাণের অনুমতি দেন।পারিবারিক বন্ধনের ফলে জামাতা বেলাল ও নিজকন্যা মনি বেগম সরল
বিশ্বাসে কবলাবিহীন ভোগদখলকৃত খরিদা সম্পত্তিতে একটা পাকাঘর নির্মাণ করেন।ঘর নির্মাণই’ কাল হয়ে দাঁড়ায়, বেলালের শ্যালক ও শ্বশুর পক্ষের লোকজনের হয় চক্ষুশূল।এতে শ্যালক নিজাম উদ্দিন(৪০)ও ফারুক(৩৫)এর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।শুরু হয় এক ধরনের স্নায়ু গৃহযুদ্ধ,কূটচাল আর বহুমুখী ষড়যন্ত্র।শ্বশুর কবলা না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে।অন্য দিকে খরিদকৃত জমিন রেজিষ্ট্রি না নিয়ে ঘর নির্মাণ করায় দারুন বিপাকে পড়েন নদী ভাঙ্গা বেলাল।এমন অমিমাংসিত অবস্থায় কেটে যায় বছরের পর বছর।তবে বছর সা’তেক আগে শ্বশুর তাঁর বিক্রিত ১৯ শতাংশ ভূমির ১৫ শতাংশ ভূমি গোপনে তিন পুত্র সন্তানের নামে কবলা দিয়ে থাকেন।পরে জানাজানি হলে জামাতা বেলাল ও মেয়ে মনি জানতে চাইলে দু’ পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। মনি বেগমের ভাইয়েরা স্বামী বেলালকে মারধোর করে।এ নিয়ে বিগত ৭বছর ধরে একাধিক মামলা হওয়ার পরে থানা পুলিশ
ও সামাজিক সিদ্ধান্তে দু’দফায় বেলালকে ১০ শতাংশ জমিন রেজিষ্ট্রি দিয়ে থাকেন শ্বশুর পক্ষ।বেলালের খরিদকৃত বাকি ৯ শতাংশ জমিন কবলা না দিয়ে বিগত তিন মাস পূর্বে স্থানীয় ইউনুছ আলীর পুত্র জহির উদ্দিন,লোকমান গংদের নিকট পুনরায় ৭শতাংশ জমিন বিক্রি করে দেন। পুনরায় বিক্রির বিষয়টি বেলাল জানতে পারলে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিরোধীয় জমিনে স্থিতিবস্থা জারির আবেদন করলে আদালত মঞ্জুর করেন।কিন্তু বেলালের শ্বশুর মুনছুর, শ্যালক নিজাম, ফারুক, ভায়রা জহির উদ্দিন ও তাঁর পুত্র মান্নান, রিয়াজসহ কতিপয় দখলবাজ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক বেলালকে উচ্ছেদের নিমিত্তে রাতের অন্ধকারে ট্রাক্টর দিয়ে তাঁর পাকাঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং দরজা ভেঙে বেদম মারধোরসহ ব্যাপক লুটপাট করে নগদ লক্ষাধিক টাকাসহ স্বর্ণ গয়না ছিনিয়ে নেয়।এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর
জেলা আদালতে মামলা হয়েছে বলে জানায় বেলালের ভাই দেলোয়ার হোসেন।বেলালের ভাই দেলোয়ার আরো জানান, তাঁর ভাই ও ভাইয়ের সহধর্মিণী শ্বশুর ও শ্যালকদের হাতে অন্যায়ভাবে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন।তাঁদের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে আইনি সহায়তা কামনা করেন বেলালের ভাই দেলোয়ার।
শ্রীবাস মজুমদার স্টাফ রিপোর্টার 
























