
স্টাফ রিপোর্টার:-লক্ষ্মীপুর কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থাপনা,জনবল সংকট ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা।৫০শয্যার এই হাস পাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকলেও নেই পর্যাপ্ত বেড,চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সেবা।সরেজমিনে ১৬এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে এক কিটিক্যাল রোগী প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো চিকিৎস কের দেখা পাননি।পরে অনুসন্ধানে জানা যায়,দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ওই সময় হাসপাতালে
উপস্থিত না থেকে পাশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান-এ রোগী দেখছিলেন।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে জানা যায়,তিনি ছুটিতে রয়েছেন।এদিকে বেড সংকটের কারণে হাসপাতালে হাম,ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।অনেক রোগী বেড না পেয়ে মেঝে বা করিডোরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।হাসপাতালে নার্স,আয়া ও ওয়ার্ড বয়ের তীব্র সংকট রয়েছে।ফলে রোগীদের মৌলিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদেরই সেবার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।অন্যদিকে,জেনারেটরের তেল সংকটের কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়।এতে জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।প্রতিদিন প্রায় ৮০০থেকে ১হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলেও সীমিত জনবল দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।একজন রোগীর স্বজন
বলেন,“জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে এসে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ডাক্তার পাইনি।পরে শুনি ডাক্তার বাইরে রোগী দেখছেন-এটা খুবই দুঃখজনক।”হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“রোগীর চাপ অনেক বেশি,কিন্তু সে অনুযায়ী জনবল নেই।আমরা চাইলেও ঠিকভাবে সেবা দিতে পারছি না।”এ বিষয়ে হাস পাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়,রোগীর চাপ বেশি এবং কিছু চিকিৎসক ছুটিতে থাকায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে।বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে স্থানীয়দের দাবি,দ্রুত জনবল বৃদ্ধি,বেড সংখ্যা বাড়ানো,জরুরি বিভাগে চিকিৎসকে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং জেনারেটরের জন্য নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কম প্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডাক্তার মোঃমাহবুবুর রহমান বলেন, ডিউটির সময় কোন ডাক্তার বাহিরে রোগি দেখার সুযোগ নাই।অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল হাসান শাহীন কে এইসব অনিয়মের বিষয়ে জানালে তিনি বলেন,খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















