চাটখিল প্রতিনিধি - নোয়াখালী
সম্পত্তি ও পারিবারিক কলহের জের ধরে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৮নং নোয়াখালা ইউপির সিংবাহুড়া গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির গ্রীস প্রবাসী ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ বাবা সিরাজুল ইসলাম ও মা আয়েশা আক্তারকে মিথ্যা মামলা ও হুমকি-ধমকি দিয়ে হয়রানি করার পাশাপাশি থেকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। ছেলে ও ছেলে বউয়ের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বৃদ্ধ এই মা বাবা। তারা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সাংবাদিকদের কাছে কান্না জড়িত কন্ঠে শনিবার বিকেলে অসহায় বাবা মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও মা আয়েশা আক্তার বলেন, বৃদ্ধকালে একটু ভালো থাকার আশায় বড় ছেলে ওমর ফারুককে বহু কষ্টে ছোট ছেলে থেকে কিছু টাকা নিয়ে এবং নিজেদের জমানো সকল টাকা দিয়ে গ্রীসে পাঠাই। গ্রীসে যাওয়ার পর ফারুকের অবস্থা ভালো হলে সে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে ফারুক দেশে আসলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মা-বাবার ভরনপোষণ ও সেবাযতœ করার অঙ্গীকার করে। বিনিময়ে বাবা সরল মনে বাড়ির দোতালা হেবা করে দেন। এরপর থেকেই দোতালার ছাদের দরজায় তালা মেরে রাখে ফারুকের পরিবার। ফলে পানিসহ ছাদের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মা-বাবসহ ছোটছেলের পরিবার। এ নিয়ে বড় ছেলে ও ছোট ছেলের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ তৈরি হলে বাবা ছোট ছেলেকেও বাড়ির নিচতলা হেবা করে দেয়। ছোট ছেলে ফরিদকে নিচতলা হেবা করে দেয়াকে কেন্দ্র করে ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে মা-বাবা ও ছোট ভাইয়ের উপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে। পরে ছোট ছেলে নিরুপায় হয়ে তার পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যায়।
এছাড়া তারা আরো বলেন, বৃদ্ধ বয়সে কোথায় যাওয়ার সুযোগ নেই বিধায় অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। অপরদিকে মিথ্যা মামলা ও বিভিন্ন লোক দিয়ে হুমকি-ধমকির কারণে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, বৃদ্ধা মা-বাবার ভরনপোষন দেয় না ঠিক মতো। বৃদ্ধ বয়সে তারা বহু কষ্টে জীবন-যাপন করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজ্বী মো: মানিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, লোকমুখে জানা যায়, ফারুক অসামাজিক প্রকৃতির লোক।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের পরিবারের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে মুঠোফোনে কথা বললে, তারা কোন কিছু না বলে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে সাইবার আইনে মামলা করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়।