ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দালালের খপ্পরে পড়ে নি:স্ব ৫ পরিবারকে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি

  • আপডেট: ১০:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 16

স্টাফ রিপোর্টার:-লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রতারণা করে সৌদি আরব নিয়ে ৫পরিবারকে নি:স্ব করে দিয়েছেন দালাল চক্র।ক্ষতিপূরণ দাবি করায় উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।সোমবার সকালে কমলনগর প্রেসক্লাবে এ দালালদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ করেন তারা।এদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা উপজেলার কালকিনি ইউনিয়ন বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গির বলেন,চরমার্টিন এলাকার আমিন উল্লাহ’র দুই ছেলে মানিক ও মোকতার সৌদি আরব থাকেন।

এরই সুবাদে আমিন উল্লাহ তার ছেলেদের মাধ্যমে সৌদিতে লোক পাঠাবে বলে আমাদের ৫ জনের কাছ থেকে ৪লাখ ৬০হাজার টাকা করে নেয়।আমিন উল্লাহ সাথে আমাদের মৌখিক চুক্তি হয়।কথা ছিলো আমাদের সৌদিতে নিয়ে ১৫মাসের আকামা এবং কাজ নিয়ে দিবে। চুক্তিমত আমিন উল্লাহর ছেলে আমাকে গত বছরের ১০ জানুয়ারি সৌদির আবাহ এলাকায় নেয়।আমার আগে পরে একই চুক্তিতে চরমার্টিন এলাকার হানিফ মোল্লার ছেলে মো. তারেক, ইউছুপ মাঝির ছেলে কামাল,মোঃআলমগীরের ছেলে রিয়াজ ও জহিরুল ইসলামকে সৌদিতে নেয়।ওখানে নিয়ে আমাদের ৩মাস বাসায় রাখে এবং কোন কাগজ পত্র করে দেয়নি তার ছেলেরা।পরে তার ছেলেরা আমাদের তিন মাসের একটা আকামা করে দেয়।সৌদিতে যাওয়ার ৭ মাসের মাথায় ওই দেশের পুলিশ আমাকে আটক করে জেলে নিয়ে যায়। আমি ১২দিন জেল খাটার পর আমাকে চলতি বছরের ১০ই জানুয়ারি সৌদি সরকার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। পরে জানতে পারি আমাদের তিন মাসের জন্য আকামা বানানো

হয়। আমাকে পুলিশ আটক করার পর বাকি সবাই পালিয়ে যায়।এদের মধ্যে রিয়াজকে পুলিশ আটক করে জেলে নিয়ে যায়।আমি দেশে এসে প্রকৃত ঘটনা এবং সৌদিতে বাকি যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের পরিবারদের সাথে নিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই।এলাকার গন্যমান্যরা অভিযুক্ত আমিন উল্লাহকে এ সব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের কথা বলেন। পরে আমিন উল্লাহ উল্টো ১৮ই ফেব্রুয়ারী লক্ষ্মীপুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কমলনগর এর আদালতে আমিসহ যারা এখনো যারা সৌদিতে আছে তাদের বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।মামলার আরেক আসামি তারেকের বাবা হানিফ মোল্লাহ সংবাদ সম্মেলন বলেন,তার ছেলেকে আমিন উল্লাহ খপ্পরে পড়ে সৌদিতে পাঠান।৪লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পর আবার আকামার কথা বলে আমার কাছ থেকে আমিন উল্লাহ আরো ৮০ হাজার টাকা নেয়।আমার ছেলে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এখন সৌদিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন

শুনি আমাকে এক নাম্বার আসামি এবং আমার ৪ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।আমি প্রশাসনের কাছে এ সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।সৌদিতে পালিয়ে থাকা মো.কামালের বাবা ইউছুপ মাঝি জানান,মেঘনার ভাঙনে সহায় সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।মাথাগোঁজানোর জন্য সামান্য একটু জমি কিনে কোন মতে দিন কাটানোর চেষ্টা ছিলো তার।পরিবারের একটু সুখের আশায় দালালের কথা মত ওই জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠান তিনি।এখন জমিও শেষ,ছেলেরও খোঁজ নেই।উল্টো মামলার আসামি। এই কথা বলতেই স্ত্রীসহ কেঁদে ওঠেন তিনি।সৌদিতে পালিয়ে থাকা জহিরুল হকের স্ত্রী সেলিনা বেগমও তার অসহায়ত্বের বর্ণনা দিয়ে দালালদের বিচার চান।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিন উল্লাহ সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

জয়নুল আবদীন ফারুকের স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন

দালালের খপ্পরে পড়ে নি:স্ব ৫ পরিবারকে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি

আপডেট: ১০:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:-লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রতারণা করে সৌদি আরব নিয়ে ৫পরিবারকে নি:স্ব করে দিয়েছেন দালাল চক্র।ক্ষতিপূরণ দাবি করায় উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।সোমবার সকালে কমলনগর প্রেসক্লাবে এ দালালদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ করেন তারা।এদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা উপজেলার কালকিনি ইউনিয়ন বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গির বলেন,চরমার্টিন এলাকার আমিন উল্লাহ’র দুই ছেলে মানিক ও মোকতার সৌদি আরব থাকেন।

এরই সুবাদে আমিন উল্লাহ তার ছেলেদের মাধ্যমে সৌদিতে লোক পাঠাবে বলে আমাদের ৫ জনের কাছ থেকে ৪লাখ ৬০হাজার টাকা করে নেয়।আমিন উল্লাহ সাথে আমাদের মৌখিক চুক্তি হয়।কথা ছিলো আমাদের সৌদিতে নিয়ে ১৫মাসের আকামা এবং কাজ নিয়ে দিবে। চুক্তিমত আমিন উল্লাহর ছেলে আমাকে গত বছরের ১০ জানুয়ারি সৌদির আবাহ এলাকায় নেয়।আমার আগে পরে একই চুক্তিতে চরমার্টিন এলাকার হানিফ মোল্লার ছেলে মো. তারেক, ইউছুপ মাঝির ছেলে কামাল,মোঃআলমগীরের ছেলে রিয়াজ ও জহিরুল ইসলামকে সৌদিতে নেয়।ওখানে নিয়ে আমাদের ৩মাস বাসায় রাখে এবং কোন কাগজ পত্র করে দেয়নি তার ছেলেরা।পরে তার ছেলেরা আমাদের তিন মাসের একটা আকামা করে দেয়।সৌদিতে যাওয়ার ৭ মাসের মাথায় ওই দেশের পুলিশ আমাকে আটক করে জেলে নিয়ে যায়। আমি ১২দিন জেল খাটার পর আমাকে চলতি বছরের ১০ই জানুয়ারি সৌদি সরকার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। পরে জানতে পারি আমাদের তিন মাসের জন্য আকামা বানানো

হয়। আমাকে পুলিশ আটক করার পর বাকি সবাই পালিয়ে যায়।এদের মধ্যে রিয়াজকে পুলিশ আটক করে জেলে নিয়ে যায়।আমি দেশে এসে প্রকৃত ঘটনা এবং সৌদিতে বাকি যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের পরিবারদের সাথে নিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই।এলাকার গন্যমান্যরা অভিযুক্ত আমিন উল্লাহকে এ সব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের কথা বলেন। পরে আমিন উল্লাহ উল্টো ১৮ই ফেব্রুয়ারী লক্ষ্মীপুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কমলনগর এর আদালতে আমিসহ যারা এখনো যারা সৌদিতে আছে তাদের বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।মামলার আরেক আসামি তারেকের বাবা হানিফ মোল্লাহ সংবাদ সম্মেলন বলেন,তার ছেলেকে আমিন উল্লাহ খপ্পরে পড়ে সৌদিতে পাঠান।৪লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পর আবার আকামার কথা বলে আমার কাছ থেকে আমিন উল্লাহ আরো ৮০ হাজার টাকা নেয়।আমার ছেলে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এখন সৌদিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন

শুনি আমাকে এক নাম্বার আসামি এবং আমার ৪ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।আমি প্রশাসনের কাছে এ সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।সৌদিতে পালিয়ে থাকা মো.কামালের বাবা ইউছুপ মাঝি জানান,মেঘনার ভাঙনে সহায় সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।মাথাগোঁজানোর জন্য সামান্য একটু জমি কিনে কোন মতে দিন কাটানোর চেষ্টা ছিলো তার।পরিবারের একটু সুখের আশায় দালালের কথা মত ওই জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠান তিনি।এখন জমিও শেষ,ছেলেরও খোঁজ নেই।উল্টো মামলার আসামি। এই কথা বলতেই স্ত্রীসহ কেঁদে ওঠেন তিনি।সৌদিতে পালিয়ে থাকা জহিরুল হকের স্ত্রী সেলিনা বেগমও তার অসহায়ত্বের বর্ণনা দিয়ে দালালদের বিচার চান।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিন উল্লাহ সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।